ইউএস-বাংলার যাত্রীর বর্ণনায় আতঙ্কের প্রহর

ইউএস-বাংলার যাত্রীর বর্ণনায় আতঙ্কের প্রহর

জরুরি অবতরণের ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রীদের মধ্যে ভয় নেমে এসেছিল; উড়োজাহাজটি যখন প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামছিল, তখন আতঙ্ক উঠেছিল চরমে।

শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের মোটামুটি অক্ষত রেখেই পাইলট উড়োজাহাজটি অবতরণ করাতে সফল হলেও তার আগের অবস্থাটি কেমন উদ্বেগের ছিল, তার বর্ণনা দিয়েছেন যাত্রী হোমিও চিকিৎসক আখতারুজ্জামান।

৪৭ বছর বয়সী এ চিকিৎসক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি এক রকম। সবাই ভয় আর আতংকের মধ্যে সময় পার করেছি।”

ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বুধবার সকালে কক্সবাজার রওনা হয়েছিল ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজটি। নোজ গিয়ার না খোলায় এটি কক্সবাজার অবতরণ না করে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে এসে জরুরি অবতরণ করে।

এই ফ্লাইটে ১৬৪ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে ১১টি শিশু। ক্রু ছিলেন ৭ জন। ৪০ জন যাত্রী সামান্য আহত এবং ৭০ জন সাময়িকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত (ট্রমা) হলেও তারা সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন।

আখতারুজ্জামান ঢাকার সরকারি হোমিও মেডিকেল কলেজের একজন চিকিৎসক। ঢাকা থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন হোমিও চিকিৎসকদের এক সম্মেলনে অংশ নিতে।

ঢাকার ইব্রাহীমপুরের বাসিন্দা আখতারুজ্জামান বলেন, বেলা সাড়ে ১১টায় যথাসময়ে বিমানটি উড্ডয়ন করে, কোনো সমস্যা ছিল না। বেলা ১২টা ২৭ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল। পৌনে ১টা বাজলেও এটি নামার লক্ষণ দেখা না গেলে যাত্রীরা বিমানের ক্রুদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, ‘কোনো সমস্যা নেই’।

প্রায় আধা ঘণ্টা পর স্পিকারে ঘোষণা করা হয়, বিমানে সমস্যা হয়েছে, জরুরি অবতরণ করবে। সে অনুযায়ী কেবিন ক্রুদের পরামর্শ অনুযায়ী সিট বেল্ট বেঁধে মাথা নিচু এবং উঁচু জুতো থাকলে তা খুলে রাখতে বলা হয়।”

আখতারুজ্জামান বলেন, “জরুরি অবতরণ করার কথা ঘোষণার পরপরই যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই কাঁদতে থাকেন। সকলেই আল্লাহকে ডাকতে শুরু করেন। আমরা মোনাজাত করছিলাম আর আয়াতুল কুরছি পড়ছিলাম। ওই সময়ের পরিস্থিতি আসলে ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়।

“একপর্যায়ে বিমানটি মারাত্মক ঝাঁকুনি দিয়ে মাটিতে নামে এবং অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায়। এসময় বিমানের ভেতরে এক ধরনের পোড়া গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। অনেকেই আগুন লেগেছে ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

“এসময় এক যাত্রী সিট থেকে উঠে গিয়ে বিমানের ইমার্জেন্সি ডোর একটা খুলে ফেলেন। আমিও ওই দরজা দিয়ে নামতে গিয়ে দেখি ওটা বিমানের ডানার পাশেই। ভয়-আতঙ্ক নিয়েই ওই ডানা থেকে লাফ দিয়ে মাটিতে নামি। আমার মতো আরও অনেক যাত্রী ডানা থেকে লাফিয়ে ওই দরজা দিয়ে নেমেছে।”

Leave a Reply

Close Menu